Showing posts with label dropper. Show all posts
Showing posts with label dropper. Show all posts
হ্যাঁ আমি !সেদিন হলের ছাদে উঠলাম

হ্যাঁ আমি !সেদিন হলের ছাদে উঠলাম

ড্রপ খাওয়ার আগ পর্যন্ত বুঝতে পারি নাই এইটার যন্ত্রনা আসলে কি । আমি সাবেক চবিয়ান । খুব বেশিদন হয়নি চবি ছেড়েছি । যখন ড্রপ খেয়েছিলাম তখন আস্তে আস্তে চেনা জগতটা অচেনা হয়ে গেলো । আমার কোন বন্ধুকে পাই নি ওই সময়টায় আমার পাশে ছিল । ক্লাসে নিত্যদিন অপমান ছিল স্বাভাবিক ব্যাপার । আস্তে আস্তে ক্লাসে যাওয়া বাদ দিলাম । ছেলেরা নাকি কোন কিছুতেই কাঁদে না । কিন্তু আমি কেঁদেছিলাম । অনেক চেষ্টা করেও ওই সময়টা নিজেকে আর ট্র্যাকে আনতে পারি নি । আমি চেষ্টা করেছি । লাভ হয়নি । নিজেকে আস্তে আস্তে গুটিয়ে নিলাম । সব থেকে খারাপ লাগলো ওইদিন যেদিন আমার এক ম্যাডাম বললেন , কতোদিন ক্যাম্পাসে থাকবা ? লজ্জা করে না ? তোমার জায়গায় আমি হলে আত্মহত্যা করতাম !! ওইদিন হলে ফিরে এসে ভাবলাম , আমার কি সুইসাইড করা উচিত ? সুইসাইড করা উচিত কিনা সেটার উত্তর পেলাম পরের দিন । আমার এক স্যার কথায় কথায় বলে বসলেন , টাকা কামাই করবে কবে ? আদৌ চাকুরী করতে পারবা ? বুঝলাম আমার মতো ছেলেদের সুইসাইড করাই উত্তম । অনেক সাহস নিয়া সেদিন হলের ছাদে উঠলাম । রাত বাজে ২ টা । আমি মরে গেলে কেউ দেখবেও না । হয়তো দয়া করে কেউ ""মেধাবী "" শব্দটা ইউজ করতে পারে । মনে অনেক চাপ । পরশুদিন আবার ৩ ক্রেডিটের এক্সাম । এক্সাম দেয়ার মতো অবস্থা নাই । সুইসাইড করতে পারলাম না । সেদিন রাত ৩ টায় রুমে ফিরলাম । ঘুমাতে পারলাম না সারারাত । কোন রকমে এক্সাম দিলাম । এক্সাম হলেও স্যারদের কটাক্ষ ছিল আমার নিত্য সঙ্গী । ততোদিনে আমি নষ্ট হয়ে গেছি । এরপরেও বিপর্যয়ের মুখে এক্সাম গুলো দিয়ে গেলাম । সব মনোবল এক করে পড়াশুনা করতে লাগলাম । জানি আমার পেছনে কেউ নাই । একা শুধুই একা নিজের রাস্তা চলেছি আমি । রাত জেগে সিভি বানাইতাম । আমি জানি কোন স্যার আমাকে রিকমেন্ড করবে না । আমি জানি সুইসাইড করলে কেউ আমার দিকে ফিরেও তাকাবে না । পুরো মাস্টার্সে আমি শুধু নিজের পড়াশুনা আর সিভির পেছনেই টাইম দিলাম । প্রতিদিন মনে হতো মরে যাবো । তারপরেও যেন কিভাবে বেঁচে রইলাম । যাই হোক এতো ইমো খাওয়ার দরকার নাই । আগে ইমো খাইতাম । এখন আর খাই না । এখন আমি জব করছি । স্পিডের নাম শুনেছেন ? কিংবা মজো অথবা ক্লেমনের নাম ? ফ্রুটিকার নাম শুনেছেন ? আমি সেই ফ্যাক্টরিতে এক্সিকিউটিভ হিসাবে চাকুরী করি । এইটা ছিল আমার থার্ড ইন্টারভিউ । এখানে মেধা তালিকায় প্রথম হয়ে আমি জব নিয়েছি । ভালো বেতন দেয় । আপনার হাতের যে স্পীডের ক্যানটা ঘুরছে অথবা ফ্রুটিকা খাচ্ছেন সেটা আমার সাইন ছাড়া বাজারে যায় না । প্রথম সাইনটা আমি করি । প্রোডাক্ট ঠিকাছে কিনা সেটা আমি জাজ করি । আমার যে ম্যাডাম আমাকে সুইসাইড করার খোচা দিয়েছিলেন তাকে আমি উপহার স্বরূপ এক কাটন জুস পাঠিয়ে দিয়েছি । আর আমার যে স্যার আমাকে ইনকাম করার খোঁচা মেরেছিলেন তাকে আমি ইনটেক ৪৮ টা স্পীডের ক্যান পাঠিয়ে দিয়েছি । জীবনটা সুইসাডের জন্য নয় । দোয়া রাখবেন যেন আরো ভালো জায়গায় যেতে পারি । ড্রপ খাওয়া মানেই সব শেষ নয় । কালেক্টেড